Mindy Bangladesh

এসএসসি পরীক্ষা তো শেষ। কিন্তু এখন?

বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ কষ্টের অবসান ঘটল।

সাময়িক ভাবে এসএসসির পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি কাজ করবে আনন্দ কাজ করবে এমনটাই মনে করা হলেও আকস্মিক ভাবে তাদের মধ্যে জন্ম নিতে থাকে উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা এবং মানসিক চাপ। এই সময়টা তাদের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়, যেখানে ভবিষ্যতের স্বপ্ন ও বাস্তবতার চাপ একসাথে মিশে যায়।

বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, হতাশা ও মানসিক চাপের মাত্রা বেড়ে যায়। বিশেষ করে, ফলাফল কেমন হবে, ভবিষ্যতে কোন কলেজে ভর্তি হওয়া যাবে, এসব চিন্তা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৩.৮% হতাশা এবং ৩৩.২% উদ্বেগে ভোগে । এই প্রবণতা মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও দেখা যায়। সাধারণত মানসিক চাপকে যতোটা স্বাভাবিক মনে হয় ততোটাই গুরুতর হয়ে উঠে যখন তা মোকাবেলা করার পরিস্থিতি থাকে না। সমস্যা গুলো আরো প্রকট হয়ে ওঠে রেজাল্ট প্রকাশ হবার পর। তখন কেউ যেমন জিপিএ পাঁচ পাওয়ার আনন্দে চিৎকার করে উঠে কেউ আবার খারাপ রেজাল্টের শোকে আত্মহত্যার মতো পথ ও বেছে নেয়। এমন ঘটনা গুলোও বাংলাদেশে বিরল নয়।

শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও শুধু ২০২৪ সালেই বাংলাদেশে ৫১৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, যার মধ্যে ৪৯.৪% স্কুল শিক্ষার্থী । এই আত্মহত্যার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে ছিল:

আবেগ তাড়িত কষ্ট (৩২.২%)

উঠতি বয়সি প্রেম ঘটিত (১৪.৮%)

মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক (৯.৯%)

পারিবারিক কলহ ও নির্যাতন (৬.২% ও ১.৪%)

পড়াশোনার চাপ (৪.৫%)

এই থেকে বুঝা যায় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা একটি গুরুতর বিষয়। মানসিক স্বাস্থ্য মোটেও অবহেলা করার মতো বিষয় না। বরং শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই অতি গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় অনেক ধরনের কথা বলতে দেখা গেলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে আত্মহত্যা নিরসন বা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ সম্ভবপর হচ্ছে না। আমরা সাধারণত অনেক ধরনের উপদেশ দিতে পারি কিন্তু যে মানসিক যন্ত্রণা অনুভব করছে একমাত্র সেই ভালো জানে তার কষ্ট কতোটা তীব্র! পৃথিবীর কোন মানুষই এই কষ্ট পাওয়া ডিজার্ভ করে না। এই নিয়ে কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া অতি জরুরি।

✅ পরিবারের সমর্থন ও খোলামেলা আলোচনা
পৃথিবীতে যতো ধরনের সমাধান দেওয়া হোক মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে পরিবারের চেয়ে ভালো ভূমিকা কেউ রাখতে পারে না। এই সেন্সিটিভ সময়ে পরিবারের প্রতিটা সদস্যদের উচিত সহানুভূতিশীল আচরণ করা। তাদের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা।

✅ কাছের মানুষজনের সাথে আলাপ করা
খারাপ লাগলে বন্ধুদের বা কাছের মানুষ জনের সাথে কথা বলা খুব কাজে দেয়। আমরা যখন প্রিয় মানুষদের সাথে কথা বলি হোক সে কাছের বন্ধু বা বাসার প্রতিবেশী বা নিকট আত্মীয় যাকে মন খুলে সব শেয়ার করা যায় এবং তারা জাজ করে বসে না। কথা বললে মন হালকা থাকে এবং মানসিক চাপ কমে।

✅ প্রয়োজনে পেশাদার সহায়তা নেওয়া
যদি কোনো শিক্ষার্থী দীর্ঘসময় ধরে হতাশা, উদ্বেগ বা মানসিক চাপ অনুভব করে, তবে পেশাদার মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া উচিত। অনেক সময় আমরা জাজমেন্ট এর ভয়ে বা আমাদের কথাগুলো শুনে তিরস্কার করবে, কেউকে বলে দিবে এসব ভয়েও বলতে পারি না। এক্ষেত্রে পেশাদারের সাহায্য নেওয়া খুব কার্যকরী সমাধান। মাইন্ডি এখানে খুব দারুন ভূমিকা রাখছে। আপনি আপনার মন খারাপের গল্প যেকোনো সময় এনোনিমাসলি শেয়ার করতে পারবেন যেখানে আপনার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন থাকবে এবং কেউ জাজ ও করবে না।

✅ মাইন্ড ফুল এক্টিভিটিজ করতে থাকা
খালি মাথায় দুশ্চিন্তা বা ওভারথিংকিং খুব দ্রুত বাসা বাঁধে। এই ছুটির দিনে নিজেকে সম্পূর্ণ খালি ভাবে ছেঁড়ে না দিয়ে প্রতিদিন কিছু কাজে সংযুক্ত থাকা জরুরি। মাইন্ড ফুল এক্টিভিটিজ চর্চা করা জরুরি। এতে মন প্রফুল্ল থাকে এবং মানসিক চাপ অনেকটা কমে। কেউ চাইলে তার শখের কাজ গুলোও করতে পারেন। হতে পারে জার্ণালিং, হতে পারে ভ্রমণ বা নতুন কোন স্কিল শেখা!

✅ কাট অফ করা
যদিও কঠিন তবে যে বার যার কারনে মানসিক অবসাদ তৈরি হয় সেই মানুষ গুলো কে এড়িয়ে চলাজরুরি। তা না হলে মানুষ গুলোর ব্যবহার ধীরে ধীরে মানসিক চাপ থেকে মানসিক অস্থিরতা তৈরি করতেও সক্ষম।

এসএসসি পরীক্ষার পরবর্তী সময়টা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নতুন যাত্রার শুরু। তাদের শুরুটা সুন্দর হোক এটাই প্রত্যাশা। তাদের এই যাত্রায় সব ধরনের মানসিক সাপোর্ট দিতে মাইন্ডি বরাবরই প্রস্তুত।

Scroll to Top